চিঠি 

অর্ঘ্য দত্ত 





যেমন ছড়িয়ে থাকে মৃত-মথ পরিত্যক্ত ঘরের মেঝেয়

অথবা উঠোন থেকে উড়ে আসা হেমন্তের পাতা

ঈষৎ হলুদ। দু লাইন লেখা তাতে, আসিতেছে শীত...

গোপনীয় কিছু নেই, বেহিজাব, হাবিজাবি কথা

#

কেউ কি জমাতো সব, বেঁকা ঠোট অবহেলা নিয়ে?

পুড়িয়ে সিঁদুরে মেখে টিপ করে পরেছে কখনো!

#

পোস্টকার্ড; বয়ে আনতো  মাঝেসাঝে প্রজাপতি রঙ

অবুঝপ্রণয় মেশা মুখচোরা অপেক্ষা-অধীর।



ভেসে যায়  ফিকে নীল ইনল্যাণ্ড-লেটার

ঠিক যেন সারি-সারি নৌকার বহর

কুয়াশা কাটিয়ে তারা দিগভ্রান্ত চলে যেতে চায়

ভুলে গিয়ে নোঙরের প্রাচীন আদর

#

পরিযায়ী জলযান ঘাট ছুঁয়ে ভেসে গেছে কবে

তবুও রেখেছি যত্নে খামে আঁকা হরতন ছাপ

নতুন নাবিক আসে, যাত্রী ওঠে নতুন বন্দর

তাহার নির্দিষ্ট দিশা, চলে গেছে মুছে দিয়ে দাগ

#

কে বলেছে কম্পাসের গভীর ব্যারাম?

সেই তো চেনায় এই ভেসে থাকা গুঢ় অভিমান...




একবার‌ই এসেছিল খাম

মোহরের নিচে লেখা তার চেনা নাম

দেখে আমি, পুড়িয়ে ফেলেছি...

#

সমস্ত অক্ষর জ্বলে গেছে, শুধু

আঙুলে জড়িয়ে আজ‌ও, সোনালী রঙের সেই ছাই।